পৃষ্ঠাসমূহ

Poem লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Poem লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫

সৈনিক


সৈনিক
         উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

ছেলেটা গত কালই বাড়ি ফিরেছিল,
ছ'মাস পর, মাঝে ছুটি পায়নি সে।
ফুলসজ্জার পরের দিন চলে যেতে হয়েছিল!
ভাগ্যিস ভিডিও কল ছিল -
তাই চিনতে পেরেছিল বৌকে।
ভেবেছিল এবার ছুটিতে হানিমুনে যাবে,
সমুদ্রে, পাহারে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছে।
প্লান করেছিল বৌকে সারপ্রাইজ দেবে।
কিন্তু হায়! সে নিজেই আজ সারপ্রাইজড্!
ফোন এসেছে, সেনাছাউনিরতে ফিরতে হবে,
আজই ফিরতে হবে - যুদ্ধ লেগেছে।
বৌয়ের কপালে চুমু খেয়ে,
মায়ের পায়ের ধুলো নিয়ে পিছু‌ ফিরল।
তার মুখে হাসি, চোখে জল, মনে সংশয়
জানে না সে পরের বার ফিরবে হেঁটে -
নাকি কফিন-বন্দী হয়ে!

বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫

গাজ়ার নিলাম

গাজ়ার নিলাম
                উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

মধ্যপ্রাচ্যে লাগল আগুন, দুনিয়া ছারখার!
যুদ্ধ-যুদ্ধ চলছে খেলা ইজরায়েল-আমেরিকার।
নেতানিয়াহু-ডোনাল্ড ট্রাম মিলিয়ে কাঁধে কাঁধ-
নিরিহ মানুষের রক্তে রাঙাল ওদের কালো হাত।
যেথায় দেখি ধ্বংসস্তূপ, কান্নার রোল কানে,
এরই উপর ট্রাম্প টাওয়ার চাইবে আকাশ পানে।
ভূমধ্যসাগর দেখ রক্তে ভেসে যায়!
'লাল' সাগরের সৈকতে ট্রাম্প রোদ পোহায়।
বাড়বে ব্যাবসা, ভরবে পকেট ডলার-ডলার-ডলার,
যার জমি সে যাক চুলোয়, ওদের বাড়বে পসার।
স্বপ্ন দেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প সঙ্গি ইলন মাস্ক,
রঙ্গস্বামী, তুলসী আছে, আছে জেডি ভান্স।
ছিন্নভিন্ন শিশুর দেহ ছড়িয়ে যেথায় সেথায়,
পচা মাংসের কটূ গন্ধে বেঁচে থাকাই দায়।
রক্তে ভেজা গাজ়ার মাটি, আকাশে শকুন দল
পাথর ওরা, এসব দেখেও আসেনা চোখে জল।
হে ঈশ্বর তুমি কি আছো? দেখো চোখ মেলে-
তোমার কবে ভাঙবে ঘুম, কতো প্রাণ নিলে?

মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

'মহাকুম্ভে ম্যাসাকার'

'মহাকুম্ভে ম্যাসাকার'
                     উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

গঙ্গা তীরে লাশের মেলা কোভিড থেকে কুম্ভ,
তবুও মাটিতে পড়ে না পা এতই তার দম্ভ।
গঙ্গা তীরে মৃত্যু হলে হবে মোক্ষ লাভ!
ধুয়ে যাবে জনমে জনমে করেছ যত পাপ।
আত্মপক্ষ সমর্থনে এটাই করছে প্রচার,
মনুষত্বহীনতার করেছে সীমা পার।
নেতা-মন্ত্রী আর মিডিয়া বোঝায় জনে-জনে,
আবার কিছু ভন্ড সাধু জুটেছে ওদের সনে।
মুছল কত সিঁথির সিঁদুর, মায়ের কোল খালি-
শবের হিসেবে পরল চাপা, ঢাকল গঙ্গা-বালি!
নির্লজ্জ নেতাগুলো লাশও করল গুম-
স্বজনহারা মানুষ গুলোর কাড়ল রাতের ঘুম।
এক দল ভিআইপি, মূল্য তাদের খাস,
পরিচয় থেকেও কেউ বেওয়ারিশ লাশ।
এ লজ্জা তোমার-আমার, এ লজ্জা সবার,
ইতিহাসের থাকবে লেখা 'মহাকুম্ভে ম্যাসাকার'।

শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৪

জাগো বাঙালি জাগো

জাগো বাঙালি জাগো 
        উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

পার্ক স্ট্রিটের সুজাটকে মনে পড়ে?
কিংবা কাটোয়া, কামদুনি, কাকদ্বীপ?
আর জি কর তো আজ‌ নতুন নয়,
তবু ভালো, তোমাদের ঘুম তো ভাঙল।

বাঙালি তো এমন নির্বিষ, নির্বিকার ছিল না!
নিশিথ সূর্যের দেশের রাজারাও-
বাঙালির রক্তচক্ষুকে ভয় পেত!
তবে এই শীত ঘুমের কারন কি?

তরুণী ডাক্তারের আর্তনাদ কি
বাঙালি কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙাতে পারল?
নাকি এই আর্তনাদ বন্ধ হলে আবার
ঘুমিয়ে পড়বে? - সময় জবাব দেবে।

আপাতত এই লড়াই জারি থাকুক,
আবার ঘুমিয়ে পড়ার আগে যেন-
তিলোত্তমার বিচার ছিনিয়ে আনতে পারি।
কি বাঙালি ঘুম পাচ্ছে? এবার তো জাগো!

বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৪

তিলোত্তমা

তিলোত্তমা
         উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

তিলোত্তমা, মা-বাবার একমাত্র সন্তান,
বড় আদরের মেয়ে-
কত আশা ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হবে,
মানুষের সেবা করবে!
ডাক্তার হলো বটে কিন্তু-
মানুষের সেবা করার সুযোগ ওরা দিল না।
ওরা, মানে মানুষের মতো দেখতে একদল 'হায়না';
যারা মেয়েটাকে এক টুকরো মাংসের মতো ছিঁড়ে খেলো,
যাদের পাশবিক অত্যাচারে মেয়েটাকে-
এই গ্রহেই নরক দর্শন করতে হলো।
সরি, পাশবিক বললে পশুদের অপমান করা হয়-
কারণ, পশুরা কখনো ধর্ষণ করে না।
মানুষই কি এই গ্রহের সবচেয়ে হিংস্র প্রাণী?
আর কতোদিন 'তিলোত্তমা'রা অত্যাচারীতা হবে?
আর কবে সমাজ বদলাবে?
মানুষ আবার কবে মানুষ হবে?
মানুষের কাছে কি আছে এই প্রশ্নের জবাব?

রবিবার, ৫ মে, ২০২৪

বাঙালির ভোট পুজো

বাঙালির ভোট পুজো
            উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

দুর্গাপুজো, ঈদ পুজো,
বড়দিনের পুজোর সাথে
ভোট পুজোও করি পালন
কব্জি ভোর মাংস ভাতে।
বারো মাসে তেরো পাবণ,
ভোট একটা তারই মাঝে,
দেওয়াল লিখনে শুরু পুজো,
লাইনে দাঁড়াই সেজেগুজে।
মিটিং, মিছিল, রোড শো,
রব উঠেছে সাজো সাজো,
চায়ের দোকান, খেলার মাঠে
গরমাগরমি চলছে তক্কো।
কোন নেতা করছে চুরি,
কেই বা করে দাদাগিরি,
এবার ভোটে জিতবে কে,
ডুববে কার স্বপন-তরী।
'পুজো'র দিন এলো শেষে
সবাই ভীষণ উত্তেজিত,
সকাল সকাল দেবো ভোট-
ভাবটা ভীষণ গদগদ।
ভোটের বুথে লম্বা লাইন,
মাংস-দোকান যায়না কম,
উৎসবেতে মেতে সবাই,
পুজোর বাজার সরগরম।
খাওয়া-দাওয়া, গাল-গল্পে
ছুটির দিনটা কাটল বেশ,
ভোটের ফল বেরোলে তবেই
কাটবে এই পুজোর রেশ।

শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪

বানভাসি মরুদেশ

বানভাসি মরুদেশ
          উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

লম্বা-চওড়া পিচ রাস্তা,
আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকা,
কলকারখানার চিমনি দিয়ে 
উড়ছে ধোঁয়া আঁকাবাঁকা।
পাহাড় কেটে গড়ছি হোটেল,
দিচ্ছি বাঁধ নদীর বুকে,
নির্বিচারে ভূগর্ভের তুলছি
জল ছেঁকে ছেঁকে।
বুজিয়ে পুকুর, জলাশয়
হচ্ছে শহর বালি-ইটের,
নির্বিচারে কাটছি গাছ
গড়তে জঙ্গল কংক্রিটের।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং? পুরনো কথা-
হয়েছে আজ ভীষণ ক্লিশে,
টগবগিয়ে ফুটছে বিশ্ব-
খরা-বন্যা দেশে-দেশে।
গলছে মেরুর গ্লাসিয়ার,
বৃষ্টি হীন রেন ফরেস্ট,
'উন্নয়নের জোয়ার'-এ দেখো
বানভাসি আজ মরুদেশ।

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

সম্পর্ক

সম্পর্ক
       উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

ছোট্ট শিশু অবুঝ মনে মায়ের কোলে বসে-
কোঠিন প্রশ্ন দিল ছুঁড়ে মুচকি একটু হেসে।
অনেক ভেবেও পাইনি মা, সম্পর্কের মানে;
কারে কয় 'সম্পর্ক' জিগাই জনে-জনে।
প্রশ্ন শুনে মা বলেন হাতটি রেখে হাতে
"সম্পর্ক সুতোর মতো, মালা যে গাঁথে।
সম্পর্কের সুতোয় বাঁধা পড়ে মানুষ-ফুল
এটাই এক সত্য জেনো, বাকি সবই ভুল।
আমি হলাম একটি ফুল, মালা কভু নই,
যে মালা মানব জাতির শ্রেষ্ঠত্বের মই।
গাঁথতে মালা প্রতি ফুল সুঁচের আঘাত সয়!
এমন ত্যাগ থাকলে তবেই সমাজ গঠন হয়।
ছোটো পরিবারে শিশু মন হচ্ছে সংকীর্ণ 
স্বার্থপর মানুষ তাই সমাজ জরাজীর্ণ।
ভাঙছে সব সম্পর্ক, ভাঙছে দেখো সমাজ,
মানব জাতির গৌরব তাই বিপন্ন হল আজ।"
জানে না মা সন্তান তার বুঝল কতখানি
মুক্ত হল আজকে মায়ের মনের সব গ্লানি।

রবিবার, ১০ মার্চ, ২০২৪

মাফ করো গাজা

মাফ করো গাজা
             উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

ইউনেস্কোর গাড়িটার পিছনে কয়েশ কঙ্কাল দাঁড়িয়ে,
আজ মাসাধিককাল পর হয়তো একটা পাউরুটি জুটবে-
জুটবে কি? কে জানে! তবু দাঁড়িয়ে আছে তারা।
হয়তো এটাই শেষ খাওয়া! প্রতি মূহুর্তে যে মৃত্যুর আশঙ্কা!
অপুষ্টি নয়, ভয় তো মানুষ রূপি রাক্ষসের-
যারা আসে, নির্বিচারে গুলি চালায়,
বিজয়োল্লাস করে, আর চলে যায়।
এই নিরীহ মানুষগুলোকে মেরে তারা দেখায় বীরত্ব
তারা যে 'শক্তিশালী' ও 'সভ্য' দেশের করে প্রতিনিধিত্ব
হত্যা যাদের নেশা, বিনাশ তাদের পেশা।
এই কঙ্কালগুলোও বাঁচতে চায়, এটা কি অপরাধ?
কে বলবে তাদের কথা? কে শুনবে তাদের ব্যাথা?
এ বিশ্ব যে বড় নির্দয়, স্বার্থপর - দীনের নেই নাথ।
যুদ্ধ-বন্ধের জন্য কত নিষ্পাপ প্রাণের আহুতি লাগে?
কতো মৃত্যুর পর নেতাদের প্রাণ জুড়ায়?
কতো ধ্বংসের পর শান্তি প্রস্তাব রাখা হয়?
আছে কি এর কোনো মাপকাঠি?
বিশ্বনেতাগণ এর জবাব দেবেন কি?
হে গাজা আমি দুঃখিত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী, আমি লজ্জিত
আমি সেই সমাজের প্রতিনিধি যে সমাজ তোমারে করেছে রিক্ত।

রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৩

আইনসভার হিরো

আইনসভার হিরো
              উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

আইনসভায় বলব আমি, শুনবে বাকি সবাই,
বিরোধীতা করবেনা কেউ, ওতে বড্ড ভয় পাই।
জনগণের ভোটে জিতে সভায় আমি হিরো,
বিরোধীপক্ষ? তুচ্ছ ওরা, ওরা ভোটে হেরো।
বিরোধীতা করলে জেনো করব সভা ছাড়া,
লেলিয়ে দেবো এজেন্সিদের, দেবে কড়া নাড়া‌।
রাহুল বেটার বড্ড বাড়, প্রশ্ন করে আমায়!
দিলাম ওকে ঘার ধাক্কা দেখি কে আটকায়।
সভার মাঝে বেটা বলে আমি নাকি দালাল!
আম্বানি আর আদানিকে করছি মালামাল।
মূর্খ বেটার খুব সাহস ভাঙে হাটে হাঁড়ি,
সবার সামনে সত্যি বলার দিয়েছে সাজা ভারি।
কানটি খুলে শুনে রাখো বলছি আবার আমি,
আইনসভায় আমিই হিরো, সবার চেয়ে দামি।

মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৩

মানুষ যখন মানুষ ছিল

মানুষ যখন মানুষ ছিল
                উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

মানুষ যখন মানুষ ছিল-
সবাই তখন মানুষ ছিল;
ধর্ম যখন জন্ম নিল-
কেউ মুসলিম কেউ হিন্দু হলো।

মানুষ যখন মানুষ ছিল-
গরু, শুয়োর সব পশু ছিল;
ধর্ম যখন জন্ম নিল-
কেউ মা কেউ হারাম হলো।

মানুষ যখন মানুষ ছিল-
কর্ম তখন ধর্ম ছিল;
ধর্ম যখন জন্ম নিল-
কর্ম কোথায় হারিয়ে গেল।

মানুষ যখন মানুষ ছিল-
পশুর মাংসে তৃপ্ত ছিল;
ধর্ম যখন জন্ম নিল-
মানুষের মাংস মানুষ খেলো।

শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৩

প্রকৃতির মরন কামড়

প্রকৃতির মরন কামড়
                    উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

পাথর কেটে, পাহাড় ভেঙে করতে হবে উন্নয়ন-
সংবিধানের বিশেষ ধারা করা হল তাই উত্তোলন।
খরস্রোতা নদীর বুকে তৈরী দেখো বিশাল বাঁধ,
বাজল ডঙ্কা উন্নয়নের কাঁধের সাথে লাগিয়ে কাঁধ।
পর্যটনে আনতে বিপ্লব হচ্ছে হোটেল, রাস্তা-ঘাট;
চাই নতুন জনবসতি, আজ জঙ্গল তাই খোলা মাঠ।
ভূগোল-বিজ্ঞান ভরেনা পকেট, পুঁজিবাদীর পুঁজি চাই;
বাস্তুতন্ত্রের শ্রাদ্ধ করে আইন বদল হলো তাই।
হিমালয়ের বুক চিরে এগিয়ে গেছে সুরঙ্গ পথ!
উন্নয়নের প্রবল চাপে ধ্বংস-মুখি এ জগৎ।
সভ্যতার হচ্ছে বিকাশ ধ্বংস করে প্রকৃতি-
দিচ্ছে এখন মরন কামড়, জোশীমঠের নেই নিষ্কৃতি।

জবাব দাও

জবাব দাও
         উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

বিশ্বের বৃহৎ গণতন্ত্র
গর্ব মোদের ভারি,
কেউবা চড়ে সোনার রথে,
কেউ পায়না শব-গাড়ি।
এক শতাংশ লোক খাচ্ছে
দেশটা লুটেপুটে
বাকীরা সব চুষছে আঙুল
খাচ্ছে ধান খুঁটে।
বিশ্বসেরা ধনীদের সব
এই দেশেতেই বাস,
ছেলের কাঁধে মায়ের শব
লজ্জায় মুখ লুকাস।
রক্তচোষা বাদুড় ওরা
চোষে গরীবের রক্ত,
ইনকিলাবের আসছে ডাক
মুষ্ঠি করো শক্ত।
বঞ্চনা আর কতোদিন-
জবাব দাও সরকার,
থাকলে চুপ এই‌ জনতাই
বুঝে নেবে তার অধিকার।

শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২

তোমার পানে চেয়েছিলেম

তোমার পানে চেয়েছিলেম
             উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

শিশির ভেজা শীতের ভোরে-
তোমায় আমি দেখেছিলেম।
উলের বোনা চাদর গায়ে,
বসেছিলে ঘাসের পরে।
দূর হতে বিভোর ভাবে
তোমার পানে চেয়েছিলেম।

বোশেখ মাসের তপ্ত দিনে-
তোমায় আবার দেখেছিলেম।
ছায়ার খোঁজে ছাতার নিচে
বসেছিলে বাসের তরে।
রোদ-চশমার আড়াল হতে
তোমার পানে চেয়েছিলেম।

শ্রাবনের সেই বাদল দিনে
তোমার দেখা পেয়েছিলেম।
বৃষ্টি-ভেজা তুমি তখন
ময়ূর পেখম মেলেছিলে।
তোমার নাচে মত্ত আমি
তোমার পানে চেয়েছিলেম।

সাদা ফুলে কাশের বনে-
তোমায় শেষ দেখেছিলেম।
হলুদ শাড়ি এলো চুলে-
কাত্যায়নী সাজে এলে,
অবুঝ মনে সেই শেষ
তোমার পানে চেয়েছিলেম।

সোমবার, ২০ জুন, ২০২২

একটু ভেবে দেখো

একটু ভেবে দেখো
         উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

কেউ বলে ধর্ম যুদ্ধ,
কেউ বলে জিহাদ।
মানুষের রক্তে রাঙা
বক ধার্মিকদের হাত।

ধর্ম গ্রন্থ বিকৃত আজ-
মগজধোলাই কল,
'ধার্মিক'দের ষড়যন্ত্রে
বিশ্ব জোড়া কোলাহল।

গরুর মাংসে যায় জাত,
আর শুয়োরের মাংস হারাম।
মানুষের মাংস মানুষ খেলে
হয় ধর্মের খুব নাম।

মন্দির ভাঙো, মূর্তি ভাঙো
জিহাদ তাকেই বলে।
ধর্ম যুদ্ধে মরে 'আখলাক'
গরুর মাংস খেলে।

খালি পেটে মারো কিল
দাড়ি-টিকিদের কি দায়?
কেমনে ভরবে তোমার পেট
ওদের বয়েই যায়।

ধর্ম-ধর্ম-ধর্ম করো
ধর্মে কি ভরে পেট?
খাটলে তবে জুটবে ভাত
কেউ দেবে না ভেট।

হিন্দুর শত্রু মুসলিম আর
মুসলিমের শত্রু খ্রীষ্টান,
সবার শত্রু নাস্তিক গোটায়
বক ধার্মিকদের দোকান।

তোমায় যে ধর্ম শেখায়,
তোমায় ক্ষেপিয়ে তোলে-
তার সন্তান রাজপুত্র,
পড়ে বিদেশি ইস্কুলে।

দিওনা পা ওদের জালে,
ইতিহাস থেকে শেখো।
সভ্যতাকে বাঁচাতে তাই
একটু ভেবে দেখো।

বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২

পুত্র দায়গ্রস্থ পিতা

পুত্র দায়গ্রস্থ পিতা
               উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

শোনো তোমায় শোনাই আমি
এক ভীষণ মজার কথা,
একটি গাঁয়ে থাকেন এক
পুত্র দায়গ্রস্থ পিতা।
মেয়ের বাবা এলেন গাঁয়ে
পাকা কথা কইতে,
ছেলের চাকরি হলো কবে
চাইলেন তা জানতে।
ছেলের বাবার গর্ব ভীষণ
বলেন ছাতি মেলে,
"বছর চারেক হলো চাকরি-
হীরের টুকরো ছেলে।"
চমকে উঠে মেয়ের বাবা
বলেন, "দাঁড়ান মশাই,
এই চাকরি থাকবে কিনা
জানে শুধু সিবিআই।
ছেলের আপনার চাকরি যদি
বাম আমলে হতো
চোখ বুজে চারটি হাত-
এক করা যেত।"
ছেলের বাবার মাথায় পড়ল
আকাশ খানা ভেঙে,
বিয়ের বাজারে ছেলের মূল্য
গেছে এতো নেমে!
মূল্য তার নামতে নামতে
হয়েছে এখন শূণ্য,
ঘুষের চাকরি করেছে তার
পাপের ঘড়া পূর্ণ।
ধাক্কা ছিল ভীষণ জোরে,
জবাব দিয়েছে সময়-
গভীর শোকে ছেলের বাবা
চলে গেলেন কোমায়।

বুধবার, ৮ জুন, ২০২২

রোদ্দুর রায়

রোদ্দুর রায়
         উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

হাত পেতে যে ঘুষ নিয়ে
বুক ফুলিয়ে বেড়ায় ঘুরে,
চোখটি বুজে, কানটি চেপে-
জেতাও ভোটে তোমরা তারে।

ঘৃণার বাণী ছড়ায় যারা-
দাঙ্গা লাগায় এক নিমিষে,
আইনসভার আসনগুলো
আলো করে তারাই বসে।

প্রতিবাদের নাম রোদ্দুর রায়
হয়তো সে প্রান্তিক।
বিদ্রোহের আগুন তারই বুকে-
জ্বলছে সদাই ধিক-ধিক। 

ভদ্র ভাষার প্রতিবাদ
রাষ্ট্র কানে তোলে না,
বধির এই রাষ্ট্রকে
ধাক্কা না দিলে জাগে না।

বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধি যখন
সরকারের ঘরে জমা,
রোদ্দুররা তখনই আসে,
কাউকে করেনা ক্ষমা।

ডাকাত নেতা পরলে ধরা
উডবার্নে নেয় আশ্রয়,
রোদ্দুররা হাসতে হাসতে
কারাগারে ঢুকে যায়।

প্রতিবাদের ঐ আগুন রেখো
তোমার ভিতর জ্বলে।
রোদ্দুর রায় তোমায় সেলাম-
রাষ্ট্রের ঘুম ভাঙিয়ে দিলে।

শনিবার, ৫ মার্চ, ২০২২

যুদ্ধ নয়, শান্তি দাও

যুদ্ধ নয়, শান্তি দাও
                  উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

চারিদিকে আগুনের লেলিহান শিখা, বারুদের কটু গন্ধ-
একটানা বেজে চলেছে উদ্ধারকারী গাড়ির সাইরেন,
বিভিশিখাময় দেশটা জুড়ে আজ স্বজন হারানোর হাহাকার,
মাঝেমধ্যেই সব ছাপিয়ে ধেয়ে আসছে বিস্ফোরণে শব্দ।
দূরে ঝলসানো পুতুল হাতে দাঁড়িয়ে এক শিশু কন্যা!
অশ্রুহীন অপলক চোখ দুটিতে যেন একরাশ প্রশ্ন।
মৃত সন্তান কোলে ছুটে আসছে এক অভাগা মা,
আকাশ ভেদি কান্না তার ওদের কানে পৌঁছায় না।
ঐদিকে বিলাপরতা এক যুবতী, তার প্রেমিকের খোঁজে-
যাকে বিদায় জানিয়েছিল যুদ্ধের আগে আলিঙ্গন করে।
রাস্তার পাশে বসে এক দৃষ্টিহীন অশীতিপর বৃদ্ধ-
একমাত্র অবলম্বন তার পুত্র যে করতে গেছে যুদ্ধ।
ক'দিন আগেও ছিল সাজানো বাগানের মতো সবই-
ঝকঝকে রাস্তাঘাট, সারি-সারি ঘরবাড়ি, ঠিক যেন জলছবি।
আজ সে সব অতীত, সব ইঁট-কাঠ-পাথরের ধ্বংসস্তূপ,
কঙ্কালসার চেহারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বহুতলগুলো।
ধ্বংস লিলা শেষে বন্ধ হবে যুদ্ধ বিমানের কোলাহল,
আর আকাশে ভিড় করবে রাশি রাশি শকুনের দল।
নাহ্, এই দৃশ্য আমরা দেখতে চাই না, হে রাষ্ট্রনেতাগণ-
তোমাদের কোটি টাকার বোমার আঘাতে অসহায় নিরীহ জনগণ।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা হয়েছে ধ্বংস; যুদ্ধবাজ নেতারা হোক নির্বংশ।
যুদ্ধে কারই বা ক্ষতি, কার হয় লাভ, কার পুণ্য আর কে করে পাপ?
চাইনা সেসব হিসেব নিকেশ, চাইনা কোনো অজুহাত-
যুদ্ধ নয়, শান্তি দাও, সাজানো দেশটাকে ফিরিয়ে দাও।

      ছবি সৌজন্যে: Google Image Search

বুধবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২২

প্রতিদান

প্রতিদান
          উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

ব্যারিকেড, কাঁটাতার, ছিল জল কামান,
রাস্তায় পেরেক পুঁতে করেছিলে আহ্বান।
ওরা মোদের অন্নদাতা, নয় কোনো সন্ত্রাসী,
ওদের পথ আটকাতে ছিলে ভীষণ আগ্রাসী।
কতো নিষ্পাপ-নিরীহ প্রাণ নিয়েছ তুমি কেড়ে-
কনকনে ঠান্ডায় কামানের জলের তোরে।
ভুলে গেছ সেই অন্ধকারময় দিনগুলো?
অনেক হয়েছে! এবার ঐ মুখোশ খুলে ফেলো।
আজ যারা তোমার পথে দিয়েছে আটকে-
কুর্নিশ তাদের, কুর্নিশ জানাই তাদের বীরত্বকে।
বিফলতার ক্রোধে তুমি কাঁদছ কুমিরের কান্না!
তোমার মুখোশ খুলে গেছে, ওতে চিঁড়ে ভিজবে না।
তুমি ওদের আটকাতে নিয়ছিলে সাতশ প্রাণ!
গণতান্ত্রিক পথে ওরা দিল তারই প্রতিদান।

শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১

গান্ধী-মূর্তীর পাদদেশে

গান্ধী-মূর্তীর পাদদেশে
            উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী


সেদিন বৈকালে গান্ধী-মূর্তীর পাদদেশে
বেশকিছু মানুষের জমায়েত দেখে
এগিয়ে গেলাম, দেখলাম মঞ্চ
আলো করে ধোপ দুরস্তুর রাজবেসে
বক্তৃতা করছে এক নেতা। কুঁচি খানি পকেটে,
পোডিয়ামে মাইক্রফোন, উন্নত তর্জনি;
সততা আর নৈতিকতার গল্প বলছে সে।
বক্তৃতা মন কাড়ল, আর একটু এগিয়ে গেলাম।
নেতার মুখটা খুব চেনা, কোথায় যেন দেখেছি!
হ্যাঁ মনে পড়েছে, টিভিতে গত জানুয়ারি মাসে
ওকেই তো দেখেছিলাম ঘুষ নিতে হাত পেতে!
হায় ঈশ্বর! এতো নির্লজ্জ হতে পারে এরা!
এ কিনা দেয় নৈতিকতার পাঠ! এখানে এসে!
এখানে এরা প্রতিদিন আসে, ভাষণ দেয়-
ভাড়ার ভির জড়ো হয়, তালিও পায়;
লোকে দেখে এই নাটক আর হাসে।
হে গান্ধী, মোদের করো ক্ষমা, মোরা অভাগা
চোরেরা করে শাসন তোমার এই দেশ 
আর যারা দিল বলিদান তারা বঞ্চিত শেষে!
ওরা জানে ওদের কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা
কেউ শুনবে না তাদের কোনো কথা
তাই দল বাঁধে এইখানে, গান্ধী-মূর্তীর পাদদেশে।

ফেরাতে হাল ফিরুক লাল

ফেরাতে হাল ফিরুক লাল                             উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী কাস্তে হাতুরি তারা হোক সিংহ, ধানের শীষ, কোদাল বেলচা কিংবা তারা - ভ...