পৃষ্ঠাসমূহ

রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

জয়চন্ডী


জয়চন্ডী
          উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

ধুধু মাঠের মাঝে মাথা উঁচু করে একাকি দাঁড়িয়ে জয়চন্ডী,
যেন এক দীর্ঘ দেহি পাঠান, আর্যের ন্যায় গাত্রবর্ণ।
তার টিকালো নাক যেন আকাশের কপল ছুঁতে চায়-
হাজার বছরের একাকিত্ব কাটানোর আশায়।

মনে তার কামনা, মেঘেদের প্রতি-
"মেঘ, তুমি আমায় আপন করে নাও, হিমালয়ের মত-
তোমার স্পর্শে হিমালয় শীতল-স্নিগ্ধ 
তবে আমি কেন তোমার আলিঙ্গন হতে বঞ্চিত?
মেঘ তুমি কি আসবে নেমে?"

সন্ধ্যা নেমে এলে একদল আদিবাসী-
এসে ভীড় করে জয়চন্ডীর পদতলে।
মহুয়ার সৌরভে ভোরে ওঠে চারিদিক, মাদল বাজে।
জয়চন্ডীরও ইচ্ছে হয় মাতাল হতে, মাদলের তালে তাল দিতে,
কিন্তু সে যে একা, বড় একা!
"মেঘ, এসো না দুজনে ডুব দিই মহুয়ার নেশায়,
মত্ত দুজনে হাতে হাত রেখে কোমড় দোলাই মাদলের তালে।"

মেঘ কি কখনো নেমে আসবে? 
তার মেদুর ছোঁয়ায় ছুঁয়ে যাবে জয়চন্ডীর রুক্ষ শরীর খানা?
মহুয়ার মিষ্টি পরিমলে বুঁদ হয়ে পা মেলাবে সাঁওতালি গানের তালে?
হাজার বছর ধরে এই আশা নিয়ে আজও একাকি দাঁড়িয়ে জয়চন্ডী।
প্রতিদিন নামে পর্যটকের ঢল, চারিদিকে কত কোলাহল-
জয়চন্ডী তবু একা, বড় একা।

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

ওরা থাকে ফুটপাতে


ওরা থাকে ফুটপাতে
        উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

পথের ধারে ফুটপাত—
ওদের মাথায় নেইকো ছাদ,
ঝড়-বৃষ্টি, শীতের রাত—
ওটাই ওদের রাজপ্রাসাদ।

হতদরিদ্র ওদের হাল!
জোটে না রোজ ভাত-ডাল,
মাথায় ছাতা, শীতের শাল;
তবুও সুখের দিন-কাল!

সভ্য সমাজের পথের বাধা—
অনেক হল আর্জি-সাধা;
ওদের করতে এবার সিধা,
মন্ত্রী হলেন আবির্ভূতা!

মহিলা মন্ত্রী মায়ের জাত—
শিশুর দুধে মারল লাথ!
মাটিতে পড়ল পেটের ভাত,
ভরল মন, মিটল সাধ!

ভোট প্রচারে কোলে যে,
পদতলে আজকে সে!
লাথ মারলে দরিদ্রকে—
দারিদ্র্য ঘোচাবে কে?

মন্ত্রীমশাই, শুনুন শেষে—
রাষ্ট্র শুধুই ওদের শোষে।
জন্ম ওদের অভাগা দেশে—
ওরা গরিব, কাদের দোষে?

রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

ফেরাতে হাল ফিরুক লাল

ফেরাতে হাল ফিরুক লাল

                           উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

কাস্তে হাতুরি তারা হোক সিংহ, ধানের শীষ,
কোদাল বেলচা কিংবা তারা - ভোটটা বামেই দিস।
বাংলার হাল ফিরবে তবেই ফেরে যদি লাল,
ভুখা পেটে জুটবে ভাত, শীতে গায়ে শাল।
চাকরি চুরি, গরু চুরি, চুরি কয়লা-বালি,
চাকরি পরীক্ষায় করেও পাশ পকেট হয় খালি।
তিলোত্তমা পায়না বিচার, চোরেরা জেলের বাইরে,
দিদি-মোদীর বোঝাপড়ায় ভুগছে বাংলা হায়রে!
হিন্দু-মুসলিম লাগিয়ে আগুন ওরা সেঁকে হাত,
মানুষের কথাই বলে বাম, সবাই দিও সাথ।
শিক্ষিতরা চাকরি পাবে, নারী পাবে মান,
দামি ভোটটা বামে দাও তবেই পরিত্রাণ।
বাংলা আজ অভিশপ্ত, বিজেমূলের গ্রাসে-
জিতলে বাম আসবে ভোর, প্রভাত অরুণ আকাশে।

বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫

সৈনিক


সৈনিক
         উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

ছেলেটা গত কালই বাড়ি ফিরেছিল,
ছ'মাস পর, মাঝে ছুটি পায়নি সে।
ফুলসজ্জার পরের দিন চলে যেতে হয়েছিল!
ভাগ্যিস ভিডিও কল ছিল -
তাই চিনতে পেরেছিল বৌকে।
ভেবেছিল এবার ছুটিতে হানিমুনে যাবে,
সমুদ্রে, পাহারে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছে।
প্লান করেছিল বৌকে সারপ্রাইজ দেবে।
কিন্তু হায়! সে নিজেই আজ সারপ্রাইজড্!
ফোন এসেছে, সেনাছাউনিরতে ফিরতে হবে,
আজই ফিরতে হবে - যুদ্ধ লেগেছে।
বৌয়ের কপালে চুমু খেয়ে,
মায়ের পায়ের ধুলো নিয়ে পিছু‌ ফিরল।
তার মুখে হাসি, চোখে জল, মনে সংশয়
জানে না সে পরের বার ফিরবে হেঁটে -
নাকি কফিন-বন্দী হয়ে!

বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫

গাজ়ার নিলাম

গাজ়ার নিলাম
                উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

মধ্যপ্রাচ্যে লাগল আগুন, দুনিয়া ছারখার!
যুদ্ধ-যুদ্ধ চলছে খেলা ইজরায়েল-আমেরিকার।
নেতানিয়াহু-ডোনাল্ড ট্রাম মিলিয়ে কাঁধে কাঁধ-
নিরিহ মানুষের রক্তে রাঙাল ওদের কালো হাত।
যেথায় দেখি ধ্বংসস্তূপ, কান্নার রোল কানে,
এরই উপর ট্রাম্প টাওয়ার চাইবে আকাশ পানে।
ভূমধ্যসাগর দেখ রক্তে ভেসে যায়!
'লাল' সাগরের সৈকতে ট্রাম্প রোদ পোহায়।
বাড়বে ব্যাবসা, ভরবে পকেট ডলার-ডলার-ডলার,
যার জমি সে যাক চুলোয়, ওদের বাড়বে পসার।
স্বপ্ন দেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প সঙ্গি ইলন মাস্ক,
রঙ্গস্বামী, তুলসী আছে, আছে জেডি ভান্স।
ছিন্নভিন্ন শিশুর দেহ ছড়িয়ে যেথায় সেথায়,
পচা মাংসের কটূ গন্ধে বেঁচে থাকাই দায়।
রক্তে ভেজা গাজ়ার মাটি, আকাশে শকুন দল
পাথর ওরা, এসব দেখেও আসেনা চোখে জল।
হে ঈশ্বর তুমি কি আছো? দেখো চোখ মেলে-
তোমার কবে ভাঙবে ঘুম, কতো প্রাণ নিলে?

মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

'মহাকুম্ভে ম্যাসাকার'

'মহাকুম্ভে ম্যাসাকার'
                     উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

গঙ্গা তীরে লাশের মেলা কোভিড থেকে কুম্ভ,
তবুও মাটিতে পড়ে না পা এতই তার দম্ভ।
গঙ্গা তীরে মৃত্যু হলে হবে মোক্ষ লাভ!
ধুয়ে যাবে জনমে জনমে করেছ যত পাপ।
আত্মপক্ষ সমর্থনে এটাই করছে প্রচার,
মনুষত্বহীনতার করেছে সীমা পার।
নেতা-মন্ত্রী আর মিডিয়া বোঝায় জনে-জনে,
আবার কিছু ভন্ড সাধু জুটেছে ওদের সনে।
মুছল কত সিঁথির সিঁদুর, মায়ের কোল খালি-
শবের হিসেবে পরল চাপা, ঢাকল গঙ্গা-বালি!
নির্লজ্জ নেতাগুলো লাশও করল গুম-
স্বজনহারা মানুষ গুলোর কাড়ল রাতের ঘুম।
এক দল ভিআইপি, মূল্য তাদের খাস,
পরিচয় থেকেও কেউ বেওয়ারিশ লাশ।
এ লজ্জা তোমার-আমার, এ লজ্জা সবার,
ইতিহাসের থাকবে লেখা 'মহাকুম্ভে ম্যাসাকার'।

জয়চন্ডী

জয়চন্ডী           উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী  ধুধু মাঠের মাঝে মাথা উঁচু করে একাকি দাঁড়িয়ে জয়চন্ডী, যেন এক দীর্ঘ দেহি পাঠান, আর্...