জয়চন্ডী
উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী
যেন এক দীর্ঘ দেহি পাঠান, আর্যের ন্যায় গাত্রবর্ণ।
তার টিকালো নাক যেন আকাশের কপল ছুঁতে চায়-
হাজার বছরের একাকিত্ব কাটানোর আশায়।
মনে তার কামনা, মেঘেদের প্রতি-
"মেঘ, তুমি আমায় আপন করে নাও, হিমালয়ের মত-
তোমার স্পর্শে হিমালয় শীতল-স্নিগ্ধ
তবে আমি কেন তোমার আলিঙ্গন হতে বঞ্চিত?
মেঘ তুমি কি আসবে নেমে?"
সন্ধ্যা নেমে এলে একদল আদিবাসী-
এসে ভীড় করে জয়চন্ডীর পদতলে।
মহুয়ার সৌরভে ভোরে ওঠে চারিদিক, মাদল বাজে।
জয়চন্ডীরও ইচ্ছে হয় মাতাল হতে, মাদলের তালে তাল দিতে,
কিন্তু সে যে একা, বড় একা!
"মেঘ, এসো না দুজনে ডুব দিই মহুয়ার নেশায়,
মত্ত দুজনে হাতে হাত রেখে কোমড় দোলাই মাদলের তালে।"
মেঘ কি কখনো নেমে আসবে?
তার মেদুর ছোঁয়ায় ছুঁয়ে যাবে জয়চন্ডীর রুক্ষ শরীর খানা?
মহুয়ার মিষ্টি পরিমলে বুঁদ হয়ে পা মেলাবে সাঁওতালি গানের তালে?
হাজার বছর ধরে এই আশা নিয়ে আজও একাকি দাঁড়িয়ে জয়চন্ডী।
প্রতিদিন নামে পর্যটকের ঢল, চারিদিকে কত কোলাহল-
জয়চন্ডী তবু একা, বড় একা।
বাহঃ খুব সুন্দর হয়েছে। এরকম আরও ভালো ভালো কবিতা আগামীদিনে পড়ার সুযোগ পাবো এই আশা রাখছি। আমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইল।
উত্তরমুছুনদারুন
উত্তরমুছুন