পৃষ্ঠাসমূহ

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

ওরা থাকে ফুটপাতে


ওরা থাকে ফুটপাতে
        উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

পথের ধারে ফুটপাত—
ওদের মাথায় নেইকো ছাদ,
ঝড়-বৃষ্টি, শীতের রাত—
ওটাই ওদের রাজপ্রাসাদ।

হতদরিদ্র ওদের হাল!
জোটে না রোজ ভাত-ডাল,
মাথায় ছাতা, শীতের শাল;
তবুও সুখের দিন-কাল!

সভ্য সমাজের পথের বাধা—
অনেক হল আর্জি-সাধা;
ওদের করতে এবার সিধা,
মন্ত্রী হলেন আবির্ভূতা!

মহিলা মন্ত্রী মায়ের জাত—
শিশুর দুধে মারল লাথ!
মাটিতে পড়ল পেটের ভাত,
ভরল মন, মিটল সাধ!

ভোট প্রচারে কোলে যে,
পদতলে আজকে সে!
লাথ মারলে দরিদ্রকে—
দারিদ্র্য ঘোচাবে কে?

মন্ত্রীমশাই, শুনুন শেষে—
রাষ্ট্র শুধুই ওদের শোষে।
জন্ম ওদের অভাগা দেশে—
ওরা গরিব, কাদের দোষে?

রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

ফেরাতে হাল ফিরুক লাল

ফেরাতে হাল ফিরুক লাল

                           উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

কাস্তে হাতুরি তারা হোক সিংহ, ধানের শীষ,
কোদাল বেলচা কিংবা তারা - ভোটটা বামেই দিস।
বাংলার হাল ফিরবে তবেই ফেরে যদি লাল,
ভুখা পেটে জুটবে ভাত, শীতে গায়ে শাল।
চাকরি চুরি, গরু চুরি, চুরি কয়লা-বালি,
চাকরি পরীক্ষায় করেও পাশ পকেট হয় খালি।
তিলোত্তমা পায়না বিচার, চোরেরা জেলের বাইরে,
দিদি-মোদীর বোঝাপড়ায় ভুগছে বাংলা হায়রে!
হিন্দু-মুসলিম লাগিয়ে আগুন ওরা সেঁকে হাত,
মানুষের কথাই বলে বাম, সবাই দিও সাথ।
শিক্ষিতরা চাকরি পাবে, নারী পাবে মান,
দামি ভোটটা বামে দাও তবেই পরিত্রাণ।
বাংলা আজ অভিশপ্ত, বিজেমূলের গ্রাসে-
জিতলে বাম আসবে ভোর, প্রভাত অরুণ আকাশে।

বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫

সৈনিক


সৈনিক
         উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

ছেলেটা গত কালই বাড়ি ফিরেছিল,
ছ'মাস পর, মাঝে ছুটি পায়নি সে।
ফুলসজ্জার পরের দিন চলে যেতে হয়েছিল!
ভাগ্যিস ভিডিও কল ছিল -
তাই চিনতে পেরেছিল বৌকে।
ভেবেছিল এবার ছুটিতে হানিমুনে যাবে,
সমুদ্রে, পাহারে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছে।
প্লান করেছিল বৌকে সারপ্রাইজ দেবে।
কিন্তু হায়! সে নিজেই আজ সারপ্রাইজড্!
ফোন এসেছে, সেনাছাউনিরতে ফিরতে হবে,
আজই ফিরতে হবে - যুদ্ধ লেগেছে।
বৌয়ের কপালে চুমু খেয়ে,
মায়ের পায়ের ধুলো নিয়ে পিছু‌ ফিরল।
তার মুখে হাসি, চোখে জল, মনে সংশয়
জানে না সে পরের বার ফিরবে হেঁটে -
নাকি কফিন-বন্দী হয়ে!

বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫

গাজ়ার নিলাম

গাজ়ার নিলাম
                উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

মধ্যপ্রাচ্যে লাগল আগুন, দুনিয়া ছারখার!
যুদ্ধ-যুদ্ধ চলছে খেলা ইজরায়েল-আমেরিকার।
নেতানিয়াহু-ডোনাল্ড ট্রাম মিলিয়ে কাঁধে কাঁধ-
নিরিহ মানুষের রক্তে রাঙাল ওদের কালো হাত।
যেথায় দেখি ধ্বংসস্তূপ, কান্নার রোল কানে,
এরই উপর ট্রাম্প টাওয়ার চাইবে আকাশ পানে।
ভূমধ্যসাগর দেখ রক্তে ভেসে যায়!
'লাল' সাগরের সৈকতে ট্রাম্প রোদ পোহায়।
বাড়বে ব্যাবসা, ভরবে পকেট ডলার-ডলার-ডলার,
যার জমি সে যাক চুলোয়, ওদের বাড়বে পসার।
স্বপ্ন দেখে ডোনাল্ড ট্রাম্প সঙ্গি ইলন মাস্ক,
রঙ্গস্বামী, তুলসী আছে, আছে জেডি ভান্স।
ছিন্নভিন্ন শিশুর দেহ ছড়িয়ে যেথায় সেথায়,
পচা মাংসের কটূ গন্ধে বেঁচে থাকাই দায়।
রক্তে ভেজা গাজ়ার মাটি, আকাশে শকুন দল
পাথর ওরা, এসব দেখেও আসেনা চোখে জল।
হে ঈশ্বর তুমি কি আছো? দেখো চোখ মেলে-
তোমার কবে ভাঙবে ঘুম, কতো প্রাণ নিলে?

মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

'মহাকুম্ভে ম্যাসাকার'

'মহাকুম্ভে ম্যাসাকার'
                     উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

গঙ্গা তীরে লাশের মেলা কোভিড থেকে কুম্ভ,
তবুও মাটিতে পড়ে না পা এতই তার দম্ভ।
গঙ্গা তীরে মৃত্যু হলে হবে মোক্ষ লাভ!
ধুয়ে যাবে জনমে জনমে করেছ যত পাপ।
আত্মপক্ষ সমর্থনে এটাই করছে প্রচার,
মনুষত্বহীনতার করেছে সীমা পার।
নেতা-মন্ত্রী আর মিডিয়া বোঝায় জনে-জনে,
আবার কিছু ভন্ড সাধু জুটেছে ওদের সনে।
মুছল কত সিঁথির সিঁদুর, মায়ের কোল খালি-
শবের হিসেবে পরল চাপা, ঢাকল গঙ্গা-বালি!
নির্লজ্জ নেতাগুলো লাশও করল গুম-
স্বজনহারা মানুষ গুলোর কাড়ল রাতের ঘুম।
এক দল ভিআইপি, মূল্য তাদের খাস,
পরিচয় থেকেও কেউ বেওয়ারিশ লাশ।
এ লজ্জা তোমার-আমার, এ লজ্জা সবার,
ইতিহাসের থাকবে লেখা 'মহাকুম্ভে ম্যাসাকার'।

শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৪

জাগো বাঙালি জাগো

জাগো বাঙালি জাগো 
        উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

পার্ক স্ট্রিটের সুজাটকে মনে পড়ে?
কিংবা কাটোয়া, কামদুনি, কাকদ্বীপ?
আর জি কর তো আজ‌ নতুন নয়,
তবু ভালো, তোমাদের ঘুম তো ভাঙল।

বাঙালি তো এমন নির্বিষ, নির্বিকার ছিল না!
নিশিথ সূর্যের দেশের রাজারাও-
বাঙালির রক্তচক্ষুকে ভয় পেত!
তবে এই শীত ঘুমের কারন কি?

তরুণী ডাক্তারের আর্তনাদ কি
বাঙালি কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙাতে পারল?
নাকি এই আর্তনাদ বন্ধ হলে আবার
ঘুমিয়ে পড়বে? - সময় জবাব দেবে।

আপাতত এই লড়াই জারি থাকুক,
আবার ঘুমিয়ে পড়ার আগে যেন-
তিলোত্তমার বিচার ছিনিয়ে আনতে পারি।
কি বাঙালি ঘুম পাচ্ছে? এবার তো জাগো!

বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৪

তিলোত্তমা

তিলোত্তমা
         উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

তিলোত্তমা, মা-বাবার একমাত্র সন্তান,
বড় আদরের মেয়ে-
কত আশা ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হবে,
মানুষের সেবা করবে!
ডাক্তার হলো বটে কিন্তু-
মানুষের সেবা করার সুযোগ ওরা দিল না।
ওরা, মানে মানুষের মতো দেখতে একদল 'হায়না';
যারা মেয়েটাকে এক টুকরো মাংসের মতো ছিঁড়ে খেলো,
যাদের পাশবিক অত্যাচারে মেয়েটাকে-
এই গ্রহেই নরক দর্শন করতে হলো।
সরি, পাশবিক বললে পশুদের অপমান করা হয়-
কারণ, পশুরা কখনো ধর্ষণ করে না।
মানুষই কি এই গ্রহের সবচেয়ে হিংস্র প্রাণী?
আর কতোদিন 'তিলোত্তমা'রা অত্যাচারীতা হবে?
আর কবে সমাজ বদলাবে?
মানুষ আবার কবে মানুষ হবে?
মানুষের কাছে কি আছে এই প্রশ্নের জবাব?

রবিবার, ৫ মে, ২০২৪

বাঙালির ভোট পুজো

বাঙালির ভোট পুজো
            উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

দুর্গাপুজো, ঈদ পুজো,
বড়দিনের পুজোর সাথে
ভোট পুজোও করি পালন
কব্জি ভোর মাংস ভাতে।
বারো মাসে তেরো পাবণ,
ভোট একটা তারই মাঝে,
দেওয়াল লিখনে শুরু পুজো,
লাইনে দাঁড়াই সেজেগুজে।
মিটিং, মিছিল, রোড শো,
রব উঠেছে সাজো সাজো,
চায়ের দোকান, খেলার মাঠে
গরমাগরমি চলছে তক্কো।
কোন নেতা করছে চুরি,
কেই বা করে দাদাগিরি,
এবার ভোটে জিতবে কে,
ডুববে কার স্বপন-তরী।
'পুজো'র দিন এলো শেষে
সবাই ভীষণ উত্তেজিত,
সকাল সকাল দেবো ভোট-
ভাবটা ভীষণ গদগদ।
ভোটের বুথে লম্বা লাইন,
মাংস-দোকান যায়না কম,
উৎসবেতে মেতে সবাই,
পুজোর বাজার সরগরম।
খাওয়া-দাওয়া, গাল-গল্পে
ছুটির দিনটা কাটল বেশ,
ভোটের ফল বেরোলে তবেই
কাটবে এই পুজোর রেশ।

শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪

বানভাসি মরুদেশ

বানভাসি মরুদেশ
          উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

লম্বা-চওড়া পিচ রাস্তা,
আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকা,
কলকারখানার চিমনি দিয়ে 
উড়ছে ধোঁয়া আঁকাবাঁকা।
পাহাড় কেটে গড়ছি হোটেল,
দিচ্ছি বাঁধ নদীর বুকে,
নির্বিচারে ভূগর্ভের তুলছি
জল ছেঁকে ছেঁকে।
বুজিয়ে পুকুর, জলাশয়
হচ্ছে শহর বালি-ইটের,
নির্বিচারে কাটছি গাছ
গড়তে জঙ্গল কংক্রিটের।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং? পুরনো কথা-
হয়েছে আজ ভীষণ ক্লিশে,
টগবগিয়ে ফুটছে বিশ্ব-
খরা-বন্যা দেশে-দেশে।
গলছে মেরুর গ্লাসিয়ার,
বৃষ্টি হীন রেন ফরেস্ট,
'উন্নয়নের জোয়ার'-এ দেখো
বানভাসি আজ মরুদেশ।

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৪

সম্পর্ক

সম্পর্ক
       উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

ছোট্ট শিশু অবুঝ মনে মায়ের কোলে বসে-
কোঠিন প্রশ্ন দিল ছুঁড়ে মুচকি একটু হেসে।
অনেক ভেবেও পাইনি মা, সম্পর্কের মানে;
কারে কয় 'সম্পর্ক' জিগাই জনে-জনে।
প্রশ্ন শুনে মা বলেন হাতটি রেখে হাতে
"সম্পর্ক সুতোর মতো, মালা যে গাঁথে।
সম্পর্কের সুতোয় বাঁধা পড়ে মানুষ-ফুল
এটাই এক সত্য জেনো, বাকি সবই ভুল।
আমি হলাম একটি ফুল, মালা কভু নই,
যে মালা মানব জাতির শ্রেষ্ঠত্বের মই।
গাঁথতে মালা প্রতি ফুল সুঁচের আঘাত সয়!
এমন ত্যাগ থাকলে তবেই সমাজ গঠন হয়।
ছোটো পরিবারে শিশু মন হচ্ছে সংকীর্ণ 
স্বার্থপর মানুষ তাই সমাজ জরাজীর্ণ।
ভাঙছে সব সম্পর্ক, ভাঙছে দেখো সমাজ,
মানব জাতির গৌরব তাই বিপন্ন হল আজ।"
জানে না মা সন্তান তার বুঝল কতখানি
মুক্ত হল আজকে মায়ের মনের সব গ্লানি।

রবিবার, ১০ মার্চ, ২০২৪

মাফ করো গাজা

মাফ করো গাজা
             উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

ইউনেস্কোর গাড়িটার পিছনে কয়েশ কঙ্কাল দাঁড়িয়ে,
আজ মাসাধিককাল পর হয়তো একটা পাউরুটি জুটবে-
জুটবে কি? কে জানে! তবু দাঁড়িয়ে আছে তারা।
হয়তো এটাই শেষ খাওয়া! প্রতি মূহুর্তে যে মৃত্যুর আশঙ্কা!
অপুষ্টি নয়, ভয় তো মানুষ রূপি রাক্ষসের-
যারা আসে, নির্বিচারে গুলি চালায়,
বিজয়োল্লাস করে, আর চলে যায়।
এই নিরীহ মানুষগুলোকে মেরে তারা দেখায় বীরত্ব
তারা যে 'শক্তিশালী' ও 'সভ্য' দেশের করে প্রতিনিধিত্ব
হত্যা যাদের নেশা, বিনাশ তাদের পেশা।
এই কঙ্কালগুলোও বাঁচতে চায়, এটা কি অপরাধ?
কে বলবে তাদের কথা? কে শুনবে তাদের ব্যাথা?
এ বিশ্ব যে বড় নির্দয়, স্বার্থপর - দীনের নেই নাথ।
যুদ্ধ-বন্ধের জন্য কত নিষ্পাপ প্রাণের আহুতি লাগে?
কতো মৃত্যুর পর নেতাদের প্রাণ জুড়ায়?
কতো ধ্বংসের পর শান্তি প্রস্তাব রাখা হয়?
আছে কি এর কোনো মাপকাঠি?
বিশ্বনেতাগণ এর জবাব দেবেন কি?
হে গাজা আমি দুঃখিত, আমি ক্ষমাপ্রার্থী, আমি লজ্জিত
আমি সেই সমাজের প্রতিনিধি যে সমাজ তোমারে করেছে রিক্ত।

সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৩

ফাঁকা মাঠে গোল

ফাঁকা মাঠে গোল
            উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

সাহেব মোদের দারুন প্লেয়ার
খেলেন ভীষণ খেটে,
গোল করতে বাসেন ভালো
বিরোধী শূন্য মাঠে।
বিরোধী দলের প্লেয়ারগুলো
বজ্জাত ভারি বটে,
প্রশ্নে-প্রশ্নে জজ্জরিত
সাহেব লাল চটে।
বড্ড সাহস তোমরা
তোলো প্রশ্ন বড়-বড়,
জানোই সাহেব দিতে জবাব
নয়তো সড়গড়।
বল পায়ে সাহেব ছোটেন
গোলটা রেখো ফাঁকা,
গোলকিপার ধরলে বল
সাহেব খাবেন ছ্যাঁকা।
অনেক হলো আর সয়না
তোদের বেয়াদপি,
সবকটাকে দিলেন খেদা
সাহেব এবার হ্যাপি।
গণতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র- এখন
অর্থহীন শব্দ,
সাহেব ক্রুদ্ধ হলে যেনো
হবেই তুমি জব্দ।
আইনসভার উভয় কক্ষ
ময়দান এখন খোলা
ডজন বিল করিয়ে পাশ
পড়াবে গোলের মালা।

রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৩

আইনসভার হিরো

আইনসভার হিরো
              উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

আইনসভায় বলব আমি, শুনবে বাকি সবাই,
বিরোধীতা করবেনা কেউ, ওতে বড্ড ভয় পাই।
জনগণের ভোটে জিতে সভায় আমি হিরো,
বিরোধীপক্ষ? তুচ্ছ ওরা, ওরা ভোটে হেরো।
বিরোধীতা করলে জেনো করব সভা ছাড়া,
লেলিয়ে দেবো এজেন্সিদের, দেবে কড়া নাড়া‌।
রাহুল বেটার বড্ড বাড়, প্রশ্ন করে আমায়!
দিলাম ওকে ঘার ধাক্কা দেখি কে আটকায়।
সভার মাঝে বেটা বলে আমি নাকি দালাল!
আম্বানি আর আদানিকে করছি মালামাল।
মূর্খ বেটার খুব সাহস ভাঙে হাটে হাঁড়ি,
সবার সামনে সত্যি বলার দিয়েছে সাজা ভারি।
কানটি খুলে শুনে রাখো বলছি আবার আমি,
আইনসভায় আমিই হিরো, সবার চেয়ে দামি।

মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৩

মানুষ যখন মানুষ ছিল

মানুষ যখন মানুষ ছিল
                উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী 

মানুষ যখন মানুষ ছিল-
সবাই তখন মানুষ ছিল;
ধর্ম যখন জন্ম নিল-
কেউ মুসলিম কেউ হিন্দু হলো।

মানুষ যখন মানুষ ছিল-
গরু, শুয়োর সব পশু ছিল;
ধর্ম যখন জন্ম নিল-
কেউ মা কেউ হারাম হলো।

মানুষ যখন মানুষ ছিল-
কর্ম তখন ধর্ম ছিল;
ধর্ম যখন জন্ম নিল-
কর্ম কোথায় হারিয়ে গেল।

মানুষ যখন মানুষ ছিল-
পশুর মাংসে তৃপ্ত ছিল;
ধর্ম যখন জন্ম নিল-
মানুষের মাংস মানুষ খেলো।

শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৩

প্রকৃতির মরন কামড়

প্রকৃতির মরন কামড়
                    উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

পাথর কেটে, পাহাড় ভেঙে করতে হবে উন্নয়ন-
সংবিধানের বিশেষ ধারা করা হল তাই উত্তোলন।
খরস্রোতা নদীর বুকে তৈরী দেখো বিশাল বাঁধ,
বাজল ডঙ্কা উন্নয়নের কাঁধের সাথে লাগিয়ে কাঁধ।
পর্যটনে আনতে বিপ্লব হচ্ছে হোটেল, রাস্তা-ঘাট;
চাই নতুন জনবসতি, আজ জঙ্গল তাই খোলা মাঠ।
ভূগোল-বিজ্ঞান ভরেনা পকেট, পুঁজিবাদীর পুঁজি চাই;
বাস্তুতন্ত্রের শ্রাদ্ধ করে আইন বদল হলো তাই।
হিমালয়ের বুক চিরে এগিয়ে গেছে সুরঙ্গ পথ!
উন্নয়নের প্রবল চাপে ধ্বংস-মুখি এ জগৎ।
সভ্যতার হচ্ছে বিকাশ ধ্বংস করে প্রকৃতি-
দিচ্ছে এখন মরন কামড়, জোশীমঠের নেই নিষ্কৃতি।

জবাব দাও

জবাব দাও
         উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

বিশ্বের বৃহৎ গণতন্ত্র
গর্ব মোদের ভারি,
কেউবা চড়ে সোনার রথে,
কেউ পায়না শব-গাড়ি।
এক শতাংশ লোক খাচ্ছে
দেশটা লুটেপুটে
বাকীরা সব চুষছে আঙুল
খাচ্ছে ধান খুঁটে।
বিশ্বসেরা ধনীদের সব
এই দেশেতেই বাস,
ছেলের কাঁধে মায়ের শব
লজ্জায় মুখ লুকাস।
রক্তচোষা বাদুড় ওরা
চোষে গরীবের রক্ত,
ইনকিলাবের আসছে ডাক
মুষ্ঠি করো শক্ত।
বঞ্চনা আর কতোদিন-
জবাব দাও সরকার,
থাকলে চুপ এই‌ জনতাই
বুঝে নেবে তার অধিকার।

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০২২

বঞ্চিতদের হাহাকার

বঞ্চিতদের হাহাকার
        উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

টেট পরীক্ষায় করেও পাশ
পায়নি যারা হকের চাকরি,
তাদেরই এই আন্দোলন,
আর তাতেই যত মারামারি।

ঘুষটা যদি পারত দিতে
ওরাও পেত চাকরির মজা।
যায়নি ওরা অসৎ পথে,
সেই অপরাধেই পাচ্ছে সাজা!

মুখটা তোলো, তাকিয়ে দেখো
বঞ্চিতদের হাহাকার,
পাষাণ মনে জাগাও মায়া,
নামের করো সুবিচার।

মধ্যরাতে পুলিশ দিয়ে-
করলে ওদের লাঠিপেটা!
থাকবে মনে এসব কিছুই,
ইতিহাসে থাকবে লেখা।

যতই তোমরা মারবে ওদের-
শক্ত হবে মুষ্ঠি খানা।
রাষ্ট্রের পোষা গুণ্ডা তুমি,
পুলিশ তোমায় জানাই ঘৃণা।

শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২

তোমার পানে চেয়েছিলেম

তোমার পানে চেয়েছিলেম
             উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

শিশির ভেজা শীতের ভোরে-
তোমায় আমি দেখেছিলেম।
উলের বোনা চাদর গায়ে,
বসেছিলে ঘাসের পরে।
দূর হতে বিভোর ভাবে
তোমার পানে চেয়েছিলেম।

বোশেখ মাসের তপ্ত দিনে-
তোমায় আবার দেখেছিলেম।
ছায়ার খোঁজে ছাতার নিচে
বসেছিলে বাসের তরে।
রোদ-চশমার আড়াল হতে
তোমার পানে চেয়েছিলেম।

শ্রাবনের সেই বাদল দিনে
তোমার দেখা পেয়েছিলেম।
বৃষ্টি-ভেজা তুমি তখন
ময়ূর পেখম মেলেছিলে।
তোমার নাচে মত্ত আমি
তোমার পানে চেয়েছিলেম।

সাদা ফুলে কাশের বনে-
তোমায় শেষ দেখেছিলেম।
হলুদ শাড়ি এলো চুলে-
কাত্যায়নী সাজে এলে,
অবুঝ মনে সেই শেষ
তোমার পানে চেয়েছিলেম।

সোমবার, ২০ জুন, ২০২২

একটু ভেবে দেখো

একটু ভেবে দেখো
         উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

কেউ বলে ধর্ম যুদ্ধ,
কেউ বলে জিহাদ।
মানুষের রক্তে রাঙা
বক ধার্মিকদের হাত।

ধর্ম গ্রন্থ বিকৃত আজ-
মগজধোলাই কল,
'ধার্মিক'দের ষড়যন্ত্রে
বিশ্ব জোড়া কোলাহল।

গরুর মাংসে যায় জাত,
আর শুয়োরের মাংস হারাম।
মানুষের মাংস মানুষ খেলে
হয় ধর্মের খুব নাম।

মন্দির ভাঙো, মূর্তি ভাঙো
জিহাদ তাকেই বলে।
ধর্ম যুদ্ধে মরে 'আখলাক'
গরুর মাংস খেলে।

খালি পেটে মারো কিল
দাড়ি-টিকিদের কি দায়?
কেমনে ভরবে তোমার পেট
ওদের বয়েই যায়।

ধর্ম-ধর্ম-ধর্ম করো
ধর্মে কি ভরে পেট?
খাটলে তবে জুটবে ভাত
কেউ দেবে না ভেট।

হিন্দুর শত্রু মুসলিম আর
মুসলিমের শত্রু খ্রীষ্টান,
সবার শত্রু নাস্তিক গোটায়
বক ধার্মিকদের দোকান।

তোমায় যে ধর্ম শেখায়,
তোমায় ক্ষেপিয়ে তোলে-
তার সন্তান রাজপুত্র,
পড়ে বিদেশি ইস্কুলে।

দিওনা পা ওদের জালে,
ইতিহাস থেকে শেখো।
সভ্যতাকে বাঁচাতে তাই
একটু ভেবে দেখো।

বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২

পুত্র দায়গ্রস্থ পিতা

পুত্র দায়গ্রস্থ পিতা
               উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী

শোনো তোমায় শোনাই আমি
এক ভীষণ মজার কথা,
একটি গাঁয়ে থাকেন এক
পুত্র দায়গ্রস্থ পিতা।
মেয়ের বাবা এলেন গাঁয়ে
পাকা কথা কইতে,
ছেলের চাকরি হলো কবে
চাইলেন তা জানতে।
ছেলের বাবার গর্ব ভীষণ
বলেন ছাতি মেলে,
"বছর চারেক হলো চাকরি-
হীরের টুকরো ছেলে।"
চমকে উঠে মেয়ের বাবা
বলেন, "দাঁড়ান মশাই,
এই চাকরি থাকবে কিনা
জানে শুধু সিবিআই।
ছেলের আপনার চাকরি যদি
বাম আমলে হতো
চোখ বুজে চারটি হাত-
এক করা যেত।"
ছেলের বাবার মাথায় পড়ল
আকাশ খানা ভেঙে,
বিয়ের বাজারে ছেলের মূল্য
গেছে এতো নেমে!
মূল্য তার নামতে নামতে
হয়েছে এখন শূণ্য,
ঘুষের চাকরি করেছে তার
পাপের ঘড়া পূর্ণ।
ধাক্কা ছিল ভীষণ জোরে,
জবাব দিয়েছে সময়-
গভীর শোকে ছেলের বাবা
চলে গেলেন কোমায়।

ওরা থাকে ফুটপাতে

ওরা থাকে ফুটপাতে         উপেন্দ্র নাথ ব্রহ্মচারী   পথের ধারে ফুটপাত— ওদের মাথায় নেইকো ছাদ, ঝড়-বৃষ্টি, শীতের রাত— ওটাই ওদের রাজ...